বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন কেন জরুরি ছিল
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বক্তব্য ছিল—বুদ্ধির মুক্তি, তথা বিচার-বুদ্ধিকে অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রের আনুগত্য থেকে মুক্তি দেওয়া। কেন?
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বক্তব্য ছিল—বুদ্ধির মুক্তি, তথা বিচার-বুদ্ধিকে অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রের আনুগত্য থেকে মুক্তি দেওয়া। কেন?
শঙ্করের দর্শন ও কাজ শুধু হিন্দু দর্শনকে নয়, ভারতীয় চিন্তার শিকড়কে বদলে দিয়েছে। উপনিষদের মূল সুর তিনি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তা আজও আধুনিক দর্শন, মনোবিজ্ঞান, এমনকি কোয়ান্টাম দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনায় হাজির হয়। গুরু-শিষ্য পরম্পরা, মঠসংস্কৃতি, বেদান্ত শিক্ষা, সংস্কৃত ব্যাখ্যা-পদ্ধতি—সব জায়গায় তাঁর ছাপ। সংক্ষেপে বললে, মাত্র তিন দশকের জীবনে তিনি করেছেন শতাব্দীর কাজ। তাঁর চিন্তা এখনো সাগ্রহে অধীত হয়।
উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকাকে আলাদাভাবে দেখবার যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি উত্তর–ঔপনিবেশিক সাহিত্যভাবনায় নজরুলকে নতুনভাবে বিবেচনারও প্রয়াস চালানো দরকার। তাঁকে খণ্ডিত করে মুসলমানের কবি বানানোর অপচেষ্টায় যারা লিপ্ত, তাদের হাত থেকে নজরুলকে রক্ষা করতে হলে আজকের নতুন প্রজন্মকে নজরুলের পাশে দাঁড়াতে হবে, নজরুলের দর্শনকে ধারণ করতে হবে মনে ও মননে।
সাদাত হাসান মান্টো উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার। দেশভাগের রক্তাক্ত বাস্তবতা, দাঙ্গার উন্মাদনা, নারীর অসহায়তা, যৌনকর্মীদের বঞ্চিত জীবন, মানুষের ভেতরের নিষ্ঠুরতা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ—এসব অন্ধকার বাস্তবতাকে তিনি কোনো ভণিতা বা রাখঢাক ছাড়াই সাহিত্যে তুলে এনেছেন।
রবীন্দ্রনাথের ইসলাম-ভাবনা কেবল সংগীত বা কাব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইসলাম ও মহানবী সম্পর্কে স্পষ্ট ও শ্রদ্ধাশীল বক্তব্য রেখেছেন। ১৯৩৩ সালে ‘পয়গম্বর দিবস’-এর একটি অনুষ্ঠানে তাঁর লেখা একটি বাণী পাঠ করেছিলেন সরোজিনী নাইডু। সেখানে রবীন্দ্রনাথ বলেন, পৃথিবীর মহান ধর্মগুলোর অন্যতম ইসলাম এবং তার অনুসারীদের দায়িত্বও তাই গভীর।
নতুনকে আবাহন করার জন্য আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। নববর্ষের বাণী নতুনকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপনের বাণী। আমি তরুণদের জীবনের কর্মপথে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
তাঁরা প্রত্যেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন; কিন্তু কেউই ইকবালকে কবি হিসেবে বিবেচনা করেননি।
‘পাগলামি আর প্রতিভার মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য আর আমি সেই পার্থক্যের নাম—সালভাদর দালি।’
বাংলা ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক হিসেবে গিরিশচন্দ্র সেনের অবদান কেবল অনুবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না; হাদিস, সিরাত, ইসলামের ইতিহাস, সুফিবাদ ও ফারসি সাহিত্যের বহু গ্রন্থ অনুবাদ-সংকলন ও মৌলিক রচনার মধ্য দিয়ে তিনি উনিশ শতকের বাংলা জ্ঞানচর্চায় স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করেন।
নিজামউদ্দিন আউলিয়াকে নিয়ে লোকসমাজে প্রচলিত ডাকাতি ও সহিংসতার কাহিনির বিপরীতে আদি ফারসি গ্রন্থে তাঁর পরিচয় ও বংশপরিচয়, শিক্ষা, পীরত্ব লাভ এবং চিশতিয়া ধারায় দায়িত্ব পালনের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে শহীদ কাদরীর অবস্থান ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কবিপ্রতিভার বিকাশ নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে নানা পর্যবেক্ষণ।
রাজনীতির ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ সর্বগ্রাসী ছিল না। তথাকথিত রাজনীতিশাস্ত্র তাঁকে সমূলে টেনেছে, তা বলার অবকাশ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজনীতির ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ মূল চরিত্রদের মধ্যে একজন।