
দেশেই পেট্রল উৎপাদন, তাহলে কেন সংকট?
দেশেই পেট্রল উৎপাদিত হলেও সংকট কেন? ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিং স্টেশনে পেট্রল, ডিজেল ও অকটেনের ঘাটতি। পাঠকদের মনে জাগছে পেট্রল ও অকটেন নিয়ে প্রশ্ন।

দেশেই পেট্রল উৎপাদিত হলেও সংকট কেন? ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিং স্টেশনে পেট্রল, ডিজেল ও অকটেনের ঘাটতি। পাঠকদের মনে জাগছে পেট্রল ও অকটেন নিয়ে প্রশ্ন।

দেশে পেট্রলের চাহিদা পুরোটাই দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো হলেও সংকট চলছে কেন? ইরান যুদ্ধ, প্যানিক বায়িং এবং কাঁচামালের ঘাটতির কারণে ফিলিং স্টেশনে লাইন ফুরছে না। পেট্রল ও অকটেনের গুণগত পার্থক্য এবং চাহিদার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হলেও সরকার এপ্রিলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। দাম না বাড়ানোর ফলে সরকারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

এপ্রিলে চাহিদার অতিরিক্ত অকটেন আসছে। পেট্রল শতভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। পেছাচ্ছে ডিজেলের জাহাজ।

বগুড়ার ৭৮টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সিংহভাগই তেল শূন্য হয়ে বন্ধ রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রল ও অকটেন। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।

সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কায় মানুষ আগেভাগেই ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল কিনে রাখতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

অকটেন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপগামী নৌপথে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন চালক ও শ্রমিকেরা। ঈদের আগে এ সংকট দূর করা না গেলে এ পথে চলাচল করা যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভাগীয় শহরগুলোর ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। এরপর আজ বুধবার দুপুর থেকে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন শুরু করেছেন সিলেটের ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা।

অকটেনের সংকটের কারণে শহরের মোটরসাইকেল চালকদের অনেকে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারেননি। ডিজেল বিক্রি বন্ধ থাকায় ছোট নৌযানের চালকেরা নৌযান চালাতে পারছেন না।

জ্বালানি তেলের মজুত কতটা, আতঙ্ক কতটা যৌক্তিক

দেশে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দিনে অকটেনের চাহিদা গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।

অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরাসিনের মজুত কত, কী পরিমাণ পাইপলাইনে আছে, কোন জাহাজ কোথায় আছে, কত দিন পর দেশে আসবে—তা নিয়ে প্রতিদিন একবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ব্রিফিং করতে পারে।