
সুন্দরবনের পাশে মৌচাষ, জীবনের ঝুঁকি ও বনের ওপর চাপ কমছে
বাঘ, জলদস্যু ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেকেই এখন বনসংলগ্ন এলাকায় মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

বাঘ, জলদস্যু ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেকেই এখন বনসংলগ্ন এলাকায় মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

দিনভর তর্ক। নারী পুরুষ একসঙ্গে। রাত হলেই বিপদের শঙ্কা। এক দিনে কীভাবে ভ্রমণ সম্ভব? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় অসম্ভবও বটে। তা–ও নোট অব ডিসেন্ট রেখে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরা বনজীবী ঈমান আলী এখন বনদস্যুদের ভয়ে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন সেই বনে যেতে পারছেন না।

সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দল ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উপকূলীয় বাংলাদেশের প্রকৃতি কখনোই একমাত্রিক নয়; এখানে নদী, খাল, জোয়ার-ভাটা, লবণাক্ততা, পলি ও জীববৈচিত্র্য এক জটিল কিন্তু সুনিয়ন্ত্রিত ছন্দে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

কালবৈশাখীতে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে সুন্দরবনের গভীরে নিখোঁজ থাকা নয়জন মৌয়ালের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনে দস্যু ডাকাতির আতঙ্কে বনজীবীরা অস্থির। দেড় বছরে ৬১ দস্যু গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার সত্ত্বেও মৌয়াল-জেলেরা চাঁদা দিয়ে বাঁচছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও সমস্যা অমীমাংসিত।

সুন্দরবনে মধু আহরণের সময় ঝড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় চার মৌয়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বন বিভাগের তল্লাশি অভিযান চলছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া সুন্দরবনের ধ্বংসের পেছনে বাইরের উন্নয়ন নীতি ও মুনাফালোভ দায়ী। গোলটেবিলে পুনরুদ্ধারের সুপারিশ হয়েছে দখল রোধ, মাটি পুনরুদ্ধার ও বিকল্প জীবিকার মাধ্যমে। নীতিগত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পুনর্জন্ম সম্ভব নয়।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযানে গত দেড় বছরে ৫টি ডাকাত দলের ৬১ সদস্য আটক এবং বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ হয়েছে। বনদস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জেলে ও ৩ পর্যটক উদ্ধার করা হয়। ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনের বনজীবী আতিয়ার গাজী (৬২) মঙ্গলবার বনদস্যুদের গুলিতে আহত হন কাঁকড়া শিকারের সময়। বাঘের আক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরলেও এখন বনদস্যুরা তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয়। চাঁদা না দেওয়ায় বনজীবীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

সুন্দরবনে মধু আহরণে যেতে মৌয়ালদের ডাকাতদের সঙ্গে করতে হয় চুক্তি। তাঁরা ‘ডিউটি খরচ’ দেওয়ার নামে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।