ইসলামী দৃষ্টিতে সময়ের ওজন: ঘড়ির কাঁটার বাইরে মুমিনের হিসাব
ইসলামে সময়কে ঘড়ির কাঁটায় নয়, আমলের ওজনে মাপা হয়। নিয়তের ইখলাসে প্রতি মুহূর্ত ভারী হয়। নামাজ, রোজা, হজের মাধ্যমে জীবনের ওজন বাড়ানোর পথ দেখানো হয়েছে কুরআন-হাদিসে।
ইসলামে সময়কে ঘড়ির কাঁটায় নয়, আমলের ওজনে মাপা হয়। নিয়তের ইখলাসে প্রতি মুহূর্ত ভারী হয়। নামাজ, রোজা, হজের মাধ্যমে জীবনের ওজন বাড়ানোর পথ দেখানো হয়েছে কুরআন-হাদিসে।
অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা কি ওয়াজিব নাকি সুন্নত—এই বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতভেদ রয়েছে। কোরআন, হাদিস ও ফিকহের নীতির ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এটি সুন্নত, তবে পূর্ণতার জন্য জরুরি। অজু তবু বৈধ হয়।
পবিত্র কোরআনে ‘আখসারিনা আমালা’ বা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সারাজীবনের খাটুনি শেষ বিচারে পণ্ড যায় যদি ইখলাস ও সুন্নাহ না থাকে। ইমাম আল-মাওয়ার্দি ও তাবারির ব্যাখ্যায় এদের পাঁচটি গোষ্ঠী উল্লেখ করেছেন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রতিটি ভালো কাজই সদকা। ধনী-দরিদ্র সবার জন্য দৈনন্দিন কাজগুলো পুণ্যের পথ খুলে দিয়েছে। হাদিসের আলোকে সদকার বিস্তৃত রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
অন্তর যদি ব্যাধিগ্রস্ত বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব পুরো দেহের ওপর পড়ে এবং আত্মিক শুদ্ধতা নষ্ট হয়, আমল ও আখলাক ধ্বংস হয়ে যায়।
রমজানে কোরআনের ছোঁয়ায় মুমিনের অন্তর উদ্বেলিত হয়, হৃদয়ে নামে হেদায়েতের বসন্ত। আর সে বসন্ত পূর্ণতা পায় তারাবির নামাজে কোরআন পাঠের মাধ্যমে।
রোজা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে শেখায়। কিন্তু দোয়া কবুলের শর্ত হলো—আল্লাহর নির্দেশ মান্য করা এবং তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া। নিছক মুখের কথা যথেষ্ট নয়।
নবীজি তাঁর উম্মতকে রমজানে চারটি আমল বেশি করতে বলেছেন। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর দুটি আমল এমন, যা না করে বান্দার উপায় নেই।
রমজানে দান-সদকা অন্যের রোজা, নামাজ ও জিকিরের সহায়ক হয়ে ওঠে; ফলে সাহায্যকারী ব্যক্তি পরোক্ষভাবে ঐ সব ইবাদতের অংশীদার হয়ে যায়।
‘রমজান’ শব্দটির আভিধানিক অর্থই হচ্ছে উত্তাপ, তাপের উচ্চমাত্রা বা পুড়িয়ে দেওয়া। রমজানকে তাই বলা যায়, গুনাহগার বান্দাদের গুনাহগুলো পুড়িয়ে নিজেদের শুদ্ধ করার মাস।
রমজানে কোরআন শিক্ষা করা, কোরআন শেখানোর উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়া এবং অধিকহারে কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকা—এসব আমল বিশেষভাবে মুস্তাহাব ও ফজিলতপূর্ণ বিবেচিত হয়েছে।
রমজান এলে অনেক গর্ভবতী বোনের মনে প্রশ্ন জাগে—আমি কি রোজা রাখতে পারব? না রাখলে কি গুনাহ হবে? আমার ইবাদত কি কমে যাবে?