আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়ে বাংলাদেশের ভাবনার কারণ কী
পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য এগুলো।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য এগুলো।
ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়ে উচ্চশিক্ষার কাজে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে আমাদের পরিবারের চারজনের নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাবা, আমার দুই ভাই–বোন ও আমার নাম সেই তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে।
এক যুগ ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যও কবজায় আনতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই চেষ্টায় এবার তাদের প্রচারকৌশলও পাল্টেছে। তবে বেশির ভাগ প্রাক্নির্বাচনী জনমত জরিপে তৃণমূল কংগ্রেসকেই এগিয়ে রাখছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অমিত শাহ বিজেপির জয় ঘোষণা করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিলীন হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অমিত শাহ তৃণমূলের দুর্নীতি তুলে ধরে ‘চার্জশিট’ পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন। মমতা নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াকে ‘মৃত্যুবাণ’ বলে সমালোচনা করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ ও বিভক্তি বাড়ছে।
পরস্পরবিরোধী এই প্রত্যাশার মধ্যে আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট গ্রহণ শুরু হতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের এবং বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার নিয়ে শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত নয়, বিশ্বের পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হলো, বিশ্লেষণ হলো।
প্রথম দফার এই ১৫২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী।
এবার বাদ দেওয়া হয়েছে চারজন মন্ত্রীকে। তাঁরা হলেন মনোজ তেওয়ারি, বিপ্লব রায়, জোসনা মান্ডি ও তাজমুল হোসেন।
সমকালীন ভারতে আর কোনো রাজ্যের নির্বাচন এতটা উত্তেজক ছিল না—এবার ২০২৬ সালে যা হলো। পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনও বাংলাদেশে এত মনোযোগ কাড়েনি অতীতে। এতসব আকর্ষণের কারণ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ বিজয়কে মর্যাদার লড়াই বানিয়ে ফেলেছিল।
পশ্চিমবঙ্গের মালদায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ৯ ঘণ্টা আটকে রেখেছেন। সুপ্রিম কোর্ট এটাকে পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে সমালোচনা করলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। আদালত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
মমতা-অভিষেককে বাদ দিয়ে নতুন কর্মসমিতি গঠন করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।