সুনামগঞ্জের হাওর, ফসল হারিয়ে বেশি বিপাকে বর্গা চাষিরা
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল হারিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গা চাষিরা। তাঁরা জমির ধান গোলায়ও তুলতে পারেননি, আবার ধারদেনা শোধ করারও এখন আর কোনো উপায় নেই।
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল হারিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গা চাষিরা। তাঁরা জমির ধান গোলায়ও তুলতে পারেননি, আবার ধারদেনা শোধ করারও এখন আর কোনো উপায় নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় স্বপ্নের ধান তলিয়ে যেতে দেখে জমিতে অচেতন হয়ে মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার (৫৫) পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জর।
হবিগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পানিতে জমিতে কেটে রাখা ধানের স্তূপে পচন ধরেছে। একই কারণে মাড়াই করা ধানও শুকানো যাচ্ছে না।
সরকারি হিসাবে হাওরে ৬২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান।
‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’
আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টির সঙ্গে সম্প্রতি কালবৈশাখীর আঘাতে জেলায় প্রায় ২১২ হেক্টর জমির ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাসিরনগরের হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
ইসলামে শ্রমকে ইবাদত বলা হয়েছে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘অতঃপর যখন নামাজ পূর্ণ করা হবে, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়ো; আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো—আশা করা যায় তোমরা সফল হবে।’ (সুরা-৬২ জুমুআহ্, আয়াত: ১০)
কৃষক আবদুল মালিক (৮৫) হাওরে ২৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০ বিঘাই তলিয়ে গেছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে।
মুন্সিগঞ্জে জমির বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এক প্রতিবন্ধী তরুণকে হত্যা করেন এক ব্যক্তি, যিনি তখন কাগজপত্র অনুযায়ী ভারতে অবস্থান করছিলেন।
টানা চার দিনের বৃষ্টির পর সুনামগঞ্জেও রোদের দেখা মিলেছে। দুর্ভোগে পড়া হাওরের কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
পাহাড়ি এলাকায় ধান চাষ করতেন সন্ধ্যামণি চাকমা (৬৫)। তবে এ চাষে তেমন লাভ হতো না তাঁর। পানির সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হতো। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। ওই জমিতেই তিনি করছেন আখ চাষ। এতেই বছরে আয় করছেন প্রায় চার লাখ টাকা।