রোজা : কোরআন যেভাবে সংযমের শিক্ষা দেয়
রোজা সেই প্রশিক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জন, আত্মসংযম শেখা এবং আল্লাহকেন্দ্রিক জীবন গঠন করা।
রোজা সেই প্রশিক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জন, আত্মসংযম শেখা এবং আল্লাহকেন্দ্রিক জীবন গঠন করা।
নবীজি তাঁর উম্মতকে রমজানে চারটি আমল বেশি করতে বলেছেন। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর দুটি আমল এমন, যা না করে বান্দার উপায় নেই।
রোজার মূল উদ্দেশ্য শুধু না খেয়ে থাকা নয়; এর লক্ষ্য মানুষের ভেতরে আল্লাহভীতি, আত্মসংযম ও নৈতিক শক্তি গড়ে তোলা।
ইবনে তুলুন চেয়েছিলেন আল্লাহর ঘর যেন জনসাধারণের করের টাকায় তৈরি না হয়। পরে তিনি একটি গুপ্তধন খুঁজে পান, যার পরিমাণ প্রায় ১২ লক্ষ দিনার।
সাহ্রি থেকে ইফতার পর্যন্ত পুরো সময় কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও দোয়ায় রত থাকা রোজার পরিপূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে রোজার বিভিন্ন আদব আছে, যা রোজাদারের মর্যাদা বাড়ায়।
আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস রমজান। আর ইমানের পরে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো নামাজ। নফল নামাজের মতো খাস ইবাদতের জন্য দিন অপেক্ষা রাত উত্তম।
রমজানের দরজা সবার জন্যই খোলা—সুস্থ ও অসুস্থ, শক্ত ও দুর্বল, প্রস্তুত ও অপ্রস্তুত সবার জন্য। এই লেখা তাঁদের জন্য, যাঁরা চাইছেন কিন্তু পারছেন না, চেষ্টা করছেন কিন্তু পিছিয়ে পড়ছেন।
পুরো মাস রমজানের রোজা রেখে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তাঁর আরও প্রিয় হয়ে ওঠেন। বরকতের নদী উপচে পরে মহান বান্দার ওপর। তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার।
রমজানের ইবাদতের আরও একটি গভীর ও নীরব দিক আছে। সেটি হলো— যা আমরা করি, তা দিয়ে নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা আমরা ‘করি না’ বা বর্জন করি।
খুশু কেবল নামাজের কোনো অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং এটি হৃদয়ের এক বিশেষ অবস্থা—যা আল্লাহর ভয়ে বিনয়াবনত হওয়া এবং তাঁর মহানুভবতার সামনে নিজেকে সঁপে দেওয়ার নাম।
মাত্র ৩৬ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবন, যার মধ্যে ইসলামের ছায়াতলে ছিলেন মাত্র ছয়টি বছর। যার বিদায়বেলায় মহান আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল।
এখানে ‘সদকা’ মানে হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব বা পুরস্কার। যদি কেউ সওয়াবের নিয়তে ভালো কাজ করে, তবে সে নিশ্চিতভাবে পুরস্কার পাবে।