
ইরানে ২ যুদ্ধবিমান হারিয়ে আরও চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে দুটি যুদ্ধবিমান হারিয়ে আরও চাপে ট্রাম্প

ইরানে দুটি যুদ্ধবিমান হারিয়ে আরও চাপে ট্রাম্প

ইরান দাবি করেছে, এক দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—এফ-১৫ই এবং এ-১০ ওয়ারথগ—ভূপাতিত করেছে তার নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। এতে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস মার্কিন উড়োজাহাজের সংখ্যা সাতে পৌঁছেছে। যৌথ সামরিক কমান্ড এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ বলে অভিহিত করেছে।

ইরানি বাহিনী একই দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল এবং এ-১০ ওয়ারথগ—ভূপাতিত করেছে। ইরানের ‘মজিদ’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করে অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সর দিয়ে এই আঘাত হানা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন এফ–১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্থানীয় মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে পাইলটের সন্ধানে ছুটছেন। ইরান কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং জনগণকে সন্ধানে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। ইরান এছাড়া এফ–৩৫ স্টেলথ ফাইটার ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

সাবেক মার্কিন নৌকর্মকর্তা হারলান উলম্যান বলছেন, ইরানে বিধ্বস্ত এফ–১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। এতে হেলিকপ্টার ও গানশিপ ব্যবহার করে দ্রুত ‘ইন অ্যান্ড আউট’ অপারেশন চালানো হতে পারে। ইরানের তল্লাশির কারণে অভিযান দ্রুত শেষ করতে হবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় পাইলটদের মনের অবস্থা ও ধরা পড়া এড়ানোর কৌশল তুলে ধরেছেন সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল। ভূমিতে নামার মুহূর্ত জটিল এবং আহত হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ। পাইলটরা প্রশিক্ষণ অনুসারে আত্মগোপন করে উদ্ধারের জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

শুক্রবার একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। এফ-১৫ই এবং এ-১০ মডেলের বিমান দুটি পৃথক ঘটনায় ধ্বংসের শিকার হয়েছে বলে ইরান দাবি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ ঘটনা আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না।

ইরানি বাহিনী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ সহ দুটি উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, মধ্য ইরানে স্টিলথ এফ-৩৫ ধ্বংস হয়েছে এবং পাইলটের অবস্থা অজানা। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের গোপন আস্তানা ধ্বংসের খবরও এসেছে।

ইরানে হামলায় যাওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য স্পেন আকাশসীমা বন্ধ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস ফার্নান্দেজ এটি নিশ্চিত করেন এবং যুদ্ধকে বেআইনি বলে অভিহিত করেন। এর ফলে ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানগুলোকে স্পেনের আকাশ এড়িয়ে লম্বা পথ গতি করতে হবে।

ড্রোন বা ড্রোনের ঝাঁক ধ্বংস করতেই এসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।

৪-৮ মার্চের মধ্যে শ্রীলঙ্কার একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক উড়োজাহাজ অবতরণ করতে চেয়েছিল।

চলমান এই সংঘাতের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই এফ-৩৫ ব্যবহার করছে। এসব যুদ্ধবিমানের একেকটির নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ কোটি ডলারের বেশি।