জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, এই হামলায় ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও তিনটি বিমানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
আইআরজিসির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় এক নিরীহ দম্পতি ও তাদের শিশুসন্তান নিহত হওয়ার ঘটনার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের বিমানবাহিনীর সদস্যরা জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটির একটি রানওয়ে র্যাম্প ও প্রাথমিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ শেড লক্ষ্য করে একাধিক ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের বহু মূল্যবান এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো রাখা হয়েছিল।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এই হামলায় শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিমান কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, "গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে নিরপরাধ বেসামরিক পরিবারগুলোকে যারা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে, সেই শিশু-হত্যাকারী বাহিনীর জন্য এই মধ্যপ্রাচ্য কোনো নিরাপদ স্থান হতে পারে না।"
কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে তারা জানায়, "পবিত্র ইসলামি ভূখণ্ড থেকে শেষ মার্কিন দখলদার সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম বিতাড়িত না করা পর্যন্ত জর্ডানসহ পুরো অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির বিরুদ্ধে তাদের এই সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।"