‘মব জাস্টিস’ ও নারী হেনস্তা রোধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি ব্রেইনের
মব জাস্টিস ও নারী হেনস্তা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চেয়েছে ব্রেইন।
মব জাস্টিস ও নারী হেনস্তা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চেয়েছে ব্রেইন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মবকে বোঝার একটি কার্যকর উপায় হলো একে এক্সপ্রেশন অব পাওয়ার বা ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা।
মাজার ও দরবার শরিফ হেফাজতে যত দ্রুত সম্ভব সরকার ও রাষ্ট্রকে সক্রিয় হতে হবে। গত দুই বছরে যত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সবগুলোর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের ফেসবুক পোস্টে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, ‘মব’ প্রসঙ্গ এবং নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে প্রত্যাশার কথা এসেছে।
নিহত পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমের বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রতিহিংসার বৃত্ত থেকে বের করে আনার বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অভ্যুত্থানের ঠিক দুই দিন পর ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।’
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি কুষ্টিয়া ও শাহবাগের মব হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ভিন্নমত, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা, মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি নিরসনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কুষ্টিয়ায় পীর শামীম রেজার হত্যা, শাহবাগে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর হামলা এবং মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীরের দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় এনসিপি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলটি জড়িতদের আইনি বিচার দাবি করেছে এবং ‘মব কালচার’ রোধে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
কুষ্টিয়ার ঘটনাটি মব সন্ত্রাসের বিষয়টি আবার সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনায় বিচার না হওয়ায় তা আবার ঘটছে। এখনি কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের সহিংসতা বাড়তে থাকবে।
শাহবাগ, রংপুর ও কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক মব সহিংসতায় উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। মব সন্ত্রাসকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের দাবিতে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সরকারের প্রতি আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার আহ্বান জানানো হয়েছে।