
ইরান যুদ্ধে ভুগছে সবাই, যুক্তরাষ্ট্র কতটা সুবিধায় আছে
যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা ইরান যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি ওলটপালট হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা ইরান যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি ওলটপালট হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বা প্রথম প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর হওয়ায় হরমুজ প্রণালি অচল, তেল-গ্যাসের দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। জাহাজ চলাচল কমে সরবরাহে চাপ, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শক্তিগুলোর সমন্বয় ছাড়া সমাধান কঠিন।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। বিশ্ব তেল বাজারে উদ্বেগ কমলেও অনিশ্চয়তা অব্যাহত। ইরান এখন জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।

ম্যাককোয়ারি গ্রুপের গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে তেলের দাম সাময়িকভাবে ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে, সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ বন্ধের কারণে ডব্লিউটিআই ক্রুড ১০০ ডলার পেরিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সরবরাহ সংকট গভীর হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।

ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার গুইন জেনকিন্স স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের জন্য বাহিনী এখনও প্রস্তুত নয়। ইরান সংকটে ট্রাম্পের সমালোচনা ও প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে অভ্যন্তরীণ ঝগড়ায় ব্রিটেন চাপে। তেলের দাম বেড়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশের জ্বালানিসংকটে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সুপরিকল্পিত আমদানি, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, কড়াকড়ি মুদ্রানীতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটকে সংস্কারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে স্তম্ভিত করে দিলেও দেশটিতে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের খুব একটা লক্ষণ নেই।

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে বিশ্বের দরিদ্র মানুষেরা।