
জাপানি ঋণের সুদের হার বাড়ল, চাপে বাংলাদেশ
সাধারণ জাপানি ঋণের সুদহার বেড়ে ৩.৬ শতাংশে উঠেছে। নতুন সুদের হার কার্যকর হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে।

সাধারণ জাপানি ঋণের সুদহার বেড়ে ৩.৬ শতাংশে উঠেছে। নতুন সুদের হার কার্যকর হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে।

গত এপ্রিলে দেশি–বিদেশি ব্যাংকগুলো ৬৭৯ কোটি ডলারের আমদানি ঋণপত্র খুলেছে এবং ৬৫১ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি করেছে। আমদানি বাণিজ্যে শীর্ষ পাঁচে ব্র্যাক ব্যাংক, এইচএসবিসি, দি সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও এসসিবি। এর মধ্যে তিনটি দেশি এবং দুটি বিদেশি ব্যাংক।

এক বছরে নিট এফডিআই প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। মূলত পুনর্বিনিয়োগ ও আন্তকোম্পানি ঋণের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাংলাদেশের ওপরে এক বিরাট অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। এই সংবাদ শঙ্কার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেছে। ঋণের খোঁজ করতে ইআরডিকে চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলায় লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে সভায় এ কথা জানান। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে বহুজাতিক ও দেশীয় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই অনেকটা বেপরোয়া বিদেশি ঋণে ঝুঁকেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। রাজস্ব–ঘাটতির কারণে বাজেট সহায়তা এবং বড় প্রকল্পে অর্থছাড় বাড়ানোয় বিদেশি ঋণের মাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলারে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ভারত, চীন ও রাশিয়া মোট ২১৭ কোটি ডলার দিয়েছে। এগুলো আগের নেওয়া ঋণের অর্থ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতি কমেছে। প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি অনেক দিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে আছে। বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ কম, সরকারি বিনিয়োগ অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ ও অপচয়মুখী, সরকারি ঋণ বেড়েছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অনেক কমে গেছে। এসব কারণে অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান ও সৌদি আরব তাদের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে পরিবর্তন করার বিষয়ে আলোচনা করছে।