পর্যালোচনা ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদন দিতে হবে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ছাড়াই জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ছাড়াই জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে পাস করার দাবি জানিয়েছে। সাভারে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগণের সঙ্গে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরে তারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাগ্য প্রকাশ, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
মন্ত্রিসভা ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া ছাড়াও ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার আমলে করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের পর বিএনপি সরকার এখন যে আইন করতে যাচ্ছে, তাতে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া আশঙ্কা দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, সেই যুক্তিতে তাঁরাই একসময় গুমের শিকার হয়েছেন।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করায় ৩১ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করা হয়েছে। সরকারকে নির্বাচনী অঙ্গীকার মেনে চলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং র্যাব-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ খর্ব হচ্ছে বলে অভিমত দিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হচ্ছে না।
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের সংশোধনী নিয়ে সংসদে সমালোচনা করেছেন সাইফুল আলম খান।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিলে নতুন খসড়া আইনে কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা কমানোর আশঙ্কা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনা করেন সারা হোসেন ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত বছরের এই সময়ে ডাকা সংসদের অধিবেশন খুব একটা দীর্ঘ হয় না। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা ঠিক করবে।