
ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীতে চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে
আজ শুক্রবার ঢাকায় প্রতিটি চামড়া ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

আজ শুক্রবার ঢাকায় প্রতিটি চামড়া ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

ঢাকায় মাঝারি গরুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ৫০০-৬৫০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়।

সাভারের ট্যানারির মালিকেরা বলছেন, এ বছর কমবেশি ১ কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ছে।

ঈদের দিন গ্রামে ঘুরে চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন গাইবান্ধার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কেনার পর স্থানীয় পাইকারেরা তা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে কেউ লোকসানে বিক্রি করছেন, কেউ আবার বাড়িতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন।

‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে ৪০টি গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছি। বড় আর মাঝারি আকারের চামড়া। প্রতিটি কিনেছি গড়ে ৪০০ টাকা করে। ১ হাজার টাকা গাড়িভাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম নগরের চৌমুহনী এলাকায় এনেছি। এখানে ১৫০ টাকার বেশি কেউ দিতে চাইছে না।’

চট্টগ্রামের অনেক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর মুখে এবার একই ধরনের হতাশা। গত ঈদে মৌসুমি বিক্রেতারা প্রত্যাশিত দাম পাননি। কেউ গরুর চামড়া কেনা দামের অর্ধেকেরও কমে বিক্রি করতে বাধ্য হন। আবার কেউ শেষ পর্যন্ত কোনো ক্রেতাই পাননি।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন তিন ব্যাংক ট্যানারিমালিকদের কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বেসরকারি কিছু ব্যাংকও চামড়া কেনার জন্য ঋণ দিয়েছে।

প্রতিবছর কোরবানির আগে দাম ঘোষণার অনুষ্ঠান হয়, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু মাঠের চিত্র একই থাকে। এই চক্র ভাঙার সময় এসেছে। কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে?

আজ শনিবার ঢাকার সাভারের বিসিক চামড়াশিল্প নগরের কনফারেন্স কক্ষে বিভিন্ন ট্যানারির মালিকসহ চামড়াশিল্প খাত–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন মন্ত্রী।

সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে, ঢাকায় গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটে গতবারের তুলনায় ২ টাকা বাড়ল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, চামড়া সংরক্ষণে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। প্রতি জেলা-উপজেলায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।