
বাজেটে উচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ: এমসিসিআই
সংগঠনটির আশঙ্কা, রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়লে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

সংগঠনটির আশঙ্কা, রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়লে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই মুঠোফোন বা ল্যাপটপের মাধ্যমে কয়েক মিনিটে রিটার্ন জমা দিতে পারেন করদাতারা।

করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে হতে পারে পৌনে চার লাখ টাকা। বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কর নেই।

সমাজের নানা শ্রেণি–পেশার করদাতাদের নানা কারণে অগ্রিম কর দিতে হয়, যা অনেক সময় যৌক্তিক হয় না। তবু করদাতাকে অগ্রিম কর দিতে হয়, যা করদাতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সম্পদ কর চালু এবং তামাক-মদের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। নিম্ন-মধ্যম আয়ের করদাতাদের স্বক্ষতি দেওয়ার জন্য করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকায় নেওয়া হবে। মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি রিকশায় নতুন অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, করব্যবস্থায় নতুন মডেল চালু করে করদাতাদের রাষ্ট্রের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো হবে। আইসিএবি ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীনেতারা ডিজিটালাইজেশন ও জবাবদিহির দাবি জানান। কর ফাঁকি কমাতে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে এসব পদক্ষেপ জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন。

এ বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার আয়কর নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নথি যাচাই–বাছাইয়ের জন্য নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। তারা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন না।

এ পর্যন্ত প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার আয়কর রিটার্ন নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দুই দফায় এসব করদাতার নথি নির্বাচন করা হয়।

এ বছর প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন। কিন্তু দেশে ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন।

ঢাকা চেম্বার ২০২৬-২৭ বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ করহার ২৫% করার প্রস্তাব করেছে। সোমবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে প্রাক্-বাজেট সভায় মোট ২৩টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এতে মধ্যবিত্ত করদাতাদের স্বস্তি এবং করজাল প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন, যার মধ্যে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন। অনলাইন রিটার্নে সোনা, নগদ টাকা, সম্পদের ভুল উপস্থাপনা সবচেয়ে বেশি হয়। এই ভুলগুলো এড়াতে করদাতাদের সতর্ক থাকতে হবে।