আড়াই মাসেই জন–আস্থার পরীক্ষায় সরকার
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আন্তরিকতা ও সাদামাটা চালচলন দৃষ্টিগ্রাহ্য হলেও সেটির প্রতিফলন এখনো পুরো সরকার, প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আন্তরিকতা ও সাদামাটা চালচলন দৃষ্টিগ্রাহ্য হলেও সেটির প্রতিফলন এখনো পুরো সরকার, প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়নি।
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কিছু কাজ হয়েছে। এখন অর্থনীতির সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়েও আলাপ জরুরি। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ছাড়া কেবল রাজনৈতিক সংস্কার দেশে শান্তি আনবে না। অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে দুই পর্বে লিখেছেন আলতাফ পারভেজ।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আসা আইএমএফ প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার না হলে মধ্য মেয়াদে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক সংস্কার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন ড. মোহন কুমার।
আইসিসি বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিল সভায় সভাপতি মাহবুবুর রহমান এলডিসি-পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার ও অর্থনৈতিক চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
এলডিসি-পরবর্তী সময়ে নতুন বাণিজ্যচুক্তি ও বাজার বহুমুখীকরণ অপরিহার্য। অর্থনৈতিক ম্যান্ডেটের জন্য দৃশ্যমান সংস্কার ও কার্যকর নীতি দরকার।
বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংক মনে করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাংক খাতই হলো পূর্বশর্ত।
চিফ হুইপ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি মোকাবিলায় ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
নতুন সরকারের সামনে রয়েছে জন–আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক সুরক্ষার রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ। অন্যদিকে একটি দুর্বল রাজস্ব কাঠামো, যা পুরোনো চিন্তায় বন্দী।
আজ সোমবার রাজধানীর বারিধারায় জাপানি দূতাবাসে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগানো’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথাগুলো বলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত।
উন্নয়ন পরিকল্পনার কাঠামোতে চারটি বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন অ্যাডভাইজরি কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এর মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম করা হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই মন্থর অবস্থায় রয়েছে। নতুন অর্থবছরে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আবার গতিশীল হয়ে ওঠে।