
যুদ্ধ যেভাবে ইরানকে রূপ দিচ্ছে নতুন বিশ্বশক্তিতে
হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হলে ইরানকে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হলে ইরানকে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনার জন্য ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা বাতিলসহ কঠোর শর্ত রয়েছে। তেহরান এছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ ফেরতেরও দাবি জানিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে যুদ্ধাপরাধ। তিনি হরমুজ প্রণালী খোলার মাগডা দিয়ে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ন্যাটো মিত্ররা এই যুদ্ধে যোগ দেয়নি।

ইসরায়েল ইরানের সাধারণ নাগরিকদের ট্রেন ও রেললাইন এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা বড় হামলার পূর্বসংকেত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে এবং ইরান প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। যুদ্ধে ইরানে ২৭৬ জন নিহত।

হরমুজ প্রণালী খোলার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প, না মানলে ইরানকে এক রাতে ধ্বংসের হুমকি। বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু ধ্বংস যুদ্ধাপরাধ হলেও তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর মধ্যস্থতায় কাজ করে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের কঠোর হুমকি সত্ত্বেও ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার দেশগুলো ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এ দেশগুলো কূটনীতির মাধ্যমে পথ খুঁজে নিচ্ছে। তবে চুক্তিগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ইরানে আহত মার্কিন কর্নেল উদ্ধার অভিযান থেকে ট্রাম্প শিক্ষা নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি ইরানকে অশ্লীল ভাষায় হরমুজ প্রণালি খোলার হুমকি দিয়েছেন এবং স্থল অভিযানের কথা ভাবছেন। আমেরিকান রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা তাঁর এই আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম শেষ হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খোলা ও যুদ্ধবিরতির জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্ট) সময়সীমা দিয়েছেন, না মানলে বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু ধ্বংসের হুমকি। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলের হাইফায় ভবন ধসে ২৪ জন আহত। ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধারের দাবি-পাল্টা অভিযোগ চলছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস পরিবহনের পথ হলেও এর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস আরও বিস্ময়কর। আরব্য ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ এখানে পর্বতমালা, তেলভান্ডার ও অনন্য ভূপ্রকৃতি গড়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হলেও বন্ধ হতে ১ কোটি বছর লাগবে।

ম্যাককোয়ারি গ্রুপের গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে তেলের দাম সাময়িকভাবে ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে, সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ বন্ধের কারণে ডব্লিউটিআই ক্রুড ১০০ ডলার পেরিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সরবরাহ সংকট গভীর হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে ভারতের মোট তেল আমদানি ১৫% কমেছে, এলপিজি ৪০% নেমেছে। তবে রাশিয়া থেকে আমদানি ৯০% বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় পেয়ে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে।