মানুষ
সীমান্তের ওপারে অস্ত্রধারী রক্ষীরা শত্রু ঠাওরে একদল নারী–পুরুষকে ঠেলে দিল সীমান্তের এপারে এপারে দণ্ডায়মান রক্ষীরাও প্রস্তুত ছিল, সাফ জানিয়ে দিল, ‘ওরা আমাদের কেউ নয় ’ চারপাশে প্রতিধ্বনি ওঠে—‘ওরা আমাদের কেউ নয়’।
সীমান্তের ওপারে অস্ত্রধারী রক্ষীরা শত্রু ঠাওরে একদল নারী–পুরুষকে ঠেলে দিল সীমান্তের এপারে এপারে দণ্ডায়মান রক্ষীরাও প্রস্তুত ছিল, সাফ জানিয়ে দিল, ‘ওরা আমাদের কেউ নয় ’ চারপাশে প্রতিধ্বনি ওঠে—‘ওরা আমাদের কেউ নয়’।
অ্যাটেনডেন্ট কেবিনে পেশেন্টের কাছে ফিরে গেলেন। গিয়ে দেখেন হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে পেশেন্ট বিছানায় শুয়ে আছে। তিনি বুঝতে পারলেন না একই সময়ে একজন মানুষ দুই জায়গায় কীভাবে থাকে! আমরা শুধু জানতে পারলাম অ্যাটেনডেন্ট অজ্ঞান হয়ে গালিবের বেডের পাশে ফ্লোরে পড়ে আছেন। ঘটনা জেনেছি তার জ্ঞান ফেরার পর।
‘রাখেন আপনার আনাজপাতি। আপনার বন্ধুর সাথে কথা বলেন।’ বে ফোন নিয়ে বলল, ‘হারামজাদা!’ পপাই দ্য সেইলরের মতো হাসলাম। আর কী করব? আমি অধিকাংশ সময় মিথ্যা কথা বলি। মোবাইল ফোনে নাইনটি নাইন পার্সেন্ট বলি। মোবাইল ফোন অফ করে দিলাম। এখন আমি আর অতনু কথা বলব। সারা রাত কথা বলব। দশ বছর আগে মরে গেছে অতনু, তার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলা যায় না।
ভেতরে–ভেতরে আমি বেশ উত্তেজনা অনুভব করলাম। কয়েক মিনিট! আর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই দেখা হবে তাঁর সাথে! টের পেলাম, হাত ঘামছে আমার। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের চারপাশে তাকালাম। বসার ঘর। কোনো জাঁকজমক নেই। নেই কোনো দামি আসবাব। শুধু ঘরে আছে এক সেট সোফা। পুরোনো আমলের। সেই সোফায় আমি বসেছি। আমার সামনে বেতের তৈরি টি–টেবিল। তবে এসব সাধারণ আসবাবই আমাকে আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলল। এত বড় লেখক!
দেখাবে বিধৌত আর শোনাবে মরচে পড়া বিরহের জিয়নকাঠি প্রবাহিত ইচ্ছামাফিক ফিরে হই মরণকাঠি ঘিরে হই বিস্মরণের ভূমিষ্ঠকালীন ক্রিয়ার গোলাকার চিহ্ন এবং সবিশেষ বক্ররেখায় চেপে বসি নিয়মসিদ্ধ সমূহ বর্তুলাকার সে রেখায় বিদ্ধকারী
পীড়িত দুরন্ত পাখি সংশয়ে সাহস নিষ্প্রভ শূন্যতা! নিজস্ব স্রোতস্বতী একাকী লুকোচুরি— অদ্ভুত ভুতুড়ে খাঁচা ভেঙে দুর্বার জলযান।
আমরা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ওকে চিনতে পারি না। কী করব বুঝতে পারি না। রাগে সে কাঁপছে। বুঝতে পারি, শুধু পোশাক-আশাকেই ওর পরিবর্তন হয়নি, মানুষটাই পাল্টে গেছে। নিজেকে এই সমাজের হাজার বছরের রীতি থেকে আলাদা করে ফেলেছে। বিপ্লব সাহস করে বলল, ‘ঠিক আছে, দোস্ত, তুমি তোমার মতো থাকো।’ শফিক বলল, ‘অবশ্যই।’ বলেই সে হাঁটা শুরু করল।
‘আর্থার মিলারের সাক্ষাৎকার’টি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠের প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো মুক্তকণ্ঠ অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। সাক্ষাৎকারটি আজ প্রথমবারের মতো ‘অন্য আলো’র অনলাইন পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
নিকষ কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, সঙ্গে দুদ্দাড় বৃষ্টি। কার্নিশে চুপচুপে ভেজা বাদামি রঙের একটা চড়ুই ডানা ঝাপ্টাচ্ছে। শোভনের সঙ্গে প্রথম যেদিন আমার কথা হয়, কিছুটা সখ্য গড়ে ওঠে, সেদিনও ছিল আজকের মতো অবিশ্রান্ত বৃষ্টির দিন।
শাহাদুজ্জামানের গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠের প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো মুক্তকণ্ঠ অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। গল্পটি আজ প্রথমবারের মতো অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
অস্তিত্ববাদের সূচনা হয় ১৯২০-এর দশকে জার্মানিতে। এটা বিংশ শতাব্দীর পাশ্চাত্য দর্শনের অন্যতম প্রধান ধারা এবং আজও পশ্চিমা পুঁজিবাদী মতাদর্শে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। অস্তিত্ববাদী দর্শনের ইতিহাসে জঁ পল সার্ত্র (১৯০৫–১৯৮০) একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর অস্তিত্ববাদী দর্শন মানুষের ইচ্ছাশক্তি অনুসন্ধান করে এবং মানব স্বাধীনতাকে কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের অস্তিত্ব তার সত্তার পূর্বে আসে। অস্তিত্ববাদকে তিনি মানবতাবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা আজও বাস্তবিক অর্থে গুরুত্ব বহন করে।