বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের ৪২ হাজার হেক্টর ধানের ক্ষতি
‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’
‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’
নেত্রকোনার হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। শ্রমিকসংকট ও অনিশ্চয়তায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাসিরনগরের হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
কিশোরগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঢলে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় কাটা ধানও নষ্ট হচ্ছে, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা।
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরগুলো আবারও ডুবে গেছে।
নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার এবং উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কৃষক আবদুল মালিক (৮৫) হাওরে ২৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০ বিঘাই তলিয়ে গেছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে।
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে ধানখেত তলিয়ে গেছে। শ্রমিকসংকট ও বাড়তি খরচে বিপাকে কৃষকেরা; প্রাথমিকভাবে শতাধিক হেক্টর ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা।
সুনামগঞ্জে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলাটিতে ভারী বৃষ্টি না হলেও ঢলের পানিতে নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে।
ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে আসা ঢলে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে বিস্তৃত এলাকার ধানখেত তলিয়ে গেছে।
খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতি, দুশ্চিতায় কৃষক।
মৌলভীবাজারে টানা কয়েক দিনের হালকা ও ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েছে।