মেঘনা নদী ভাঙন রোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ, পাউবো ঘেরাও, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
মেঘনা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।
মেঘনা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুলতানা বেগমের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে। গত ছয় দিনের ভাঙনে তাঁর মতো ওই গ্রামের আটটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। শতাধিক বাড়ি এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে।
সম্প্রতি ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের (বাপা-বেন) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৫ বছরে অন্তত ১১০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। বর্তমানে মাত্র ২০টি পরিবারের বসতঘর টিকে আছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে সাবেক ১ নম্বর ফেরিঘাটের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে নদীর তীরে অল্প কিছু জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। কোথাও পুরোনো বালুর বস্তা পড়ে আছে, কোথাও নতুন করে পাড় রক্ষার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভাঙনের তুলনায় এই প্রতিরোধব্যবস্থা খুবই সীমিত।
ধুনট উপজেলার বানিয়াজান থেকে শহড়াবাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভাঙন–আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধে বসতি গড়ে বসবাস করা পরিবারগুলো শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার অংশ ধসে পড়ার পর স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের নতুন জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ ভূমি স্থানীয়ভাবে সবুজচর নামে পরিচিত। এর পশ্চিমে রয়েছে আরও নতুন একটি চর, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও রাখালদের দেওয়া নাম ‘ডোবাচর’। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় চার কিলোমিটার বিস্তৃত এই চর জোয়ারে ডুবে গেলেও ভাটায় জেগে ওঠে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৭০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
পদ্মা নদীর নির্মাণাধীন তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার পানি ও স্রোত বাড়ায় গত সাত দিনে নদীতে বিলীন হয়েছে বাঁধটির অন্তত ২০০ মিটার অংশ।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুরে ইলিশা নদীর তীরে গাছপালায় ঘেরা একটি বিচ্ছিন্ন বাড়ি। গাছপালার আড়াল পেরিয়ে ভেতরে গেলেই দেখা যায়, পলিথিনে মোড়া ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর।