সূর্য এখন প্রখর ভীষণ কাঠফাটা রোদ আগুন ঝরায়, চিলেকোঠার জিনিসগুলো ছাদ–আঙিনায় রোদের অপেক্ষায়। ধুলো জমে পড়ে আছে পুরোনো স্মৃতির নামে, ভাবলাম, দিই না বেচে সের দরে নামমাত্র দামে! পরক্ষণেই মনে হলো ওগুলো যে আমার প্রাণ, পারি না যে বেচে দিতে নয়তো করে দিতে দান। কত দিন, কত বছর আগলে রেখেছি কে জানে? পুরোনো জিনিসগুলো দেখতে আবার সাধ জাগল মনে। রংচটা ট্রাঙ্কের চার দেয়ালে ঘুমিয়ে আছে ছোট্টবেলার স্মৃতি, শৈশবের জামাকাপড় রঙিন খেলনা ইতিউতি। মাকড়সার জালে জড়িয়ে আছে বিগত সময় এখানে, পড়েছি কত যে গল্প-উপন্যাস আমি লুকিয়ে এইখানে। ধুলো ঝেড়ে বসলাম সেই পুরোনো বেঞ্চিটিতে, শেলফ থেকে ‘বাল্যশিক্ষা’ বইটি তুলে নিলাম হাতে। বিবর্ণ সেই বইটি নিয়ে গেল আমায় পেছনে বহুদূর, যেন ফিরে পেলাম শৈশবের সেই দিনগুলো সুমধুর। রোদ এসেছে চিলেকোঠায় খিড়কি ভেদ করে, ধুলোয় মিশে থাকা পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ভর করে। আজও জীবন্ত এখানে আমার মায়ের পুরোনো সংসার, তাই তো আমি খুঁজে পাই এই চিলেকোঠায় আমার অস্তিত্ব আবার।

সিডনিতে বাংলাদেশ নিয়ে বইয়ের আলোচনা
১৯ জুন, ২০২৬ এ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ





