দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা শেষে বিএনপির আঙিনা ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি মনে করেন, বিএনপির রাজনীতির প্রভাব এখন হ্রাস পেয়েছে, আর তাই ন্যায়বিচার ও আল্লাহর সন্তুষ্টির খোঁজে তিনি জামায়াতের পতাকাতলে এসেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আক্তারুজ্জামান রঞ্জনের সম্মানে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানেই তিনি তার রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের কথা জানান।
বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, “আমি ৪০ বছর বিএনপির রাজনীতি করেছি। একটি বিশাল নদীতে ছিলাম। কিন্তু আজ সেই নদীতে চর পড়ে গেছে। তাই ন্যায় ও সাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আমাকে সেই নদী থেকে সরে আসতে হয়েছে। আমি আরেকটি বড় নদীতে এসেছি। সেই নদী হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।”
দেশের ভবিষ্যৎ ও লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে আমি আপনাদের (জামায়াত) কাছে এসেছি। আপনারা আমাকে ধারণ করেছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা আল্লাহর কাছে পৌঁছাব, ইনশাআল্লাহ আমরা সাগরে যাব। আমাদের জয় হবেই হবে, সত্যের জয় হবে। বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ। আমি জনগণের কল্যাণের জন্য হিমালয় পর্বত ডিঙাতেও পিছপা হব না।”
নিজের আদর্শিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, “আমার সকল নাজাতের উৎস হলেন পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা। আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাংলাদেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে আল্লাহর সহায়তা ও সম্মতি প্রয়োজন। আমরা ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম, শহর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হক, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ক্বারি নজরুল ইসলাম এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবু আহমেদ।
উল্লেখ্য যে, শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি প্রদান এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ৩ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আক্তারুজ্জামান রঞ্জন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী তাকে এই গণসংবর্ধনা প্রদান করে।