পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাতের অন্ধকারে এক মৎস্য খামারের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তদের এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে রুই ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এতে খামারি বাবুল খানের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজাম্মা গ্রামে।
ভুক্তভোগী মৎস্য খামারি বাবুল খান (৫৫) জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং তার ঘেরের দেখাশোনার দায়িত্বে দুজন লোক নিয়োজিত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তারা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘেরে গিয়ে তারা দেখতে পান, সব মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এবং তার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাবুল খান বলেন, “আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা থাকতেই পারে। কিন্তু আমার এই মাছের খামারটির কী দোষ করল? আমার সঙ্গে বিরোধ থাকলে সেটা আমার সঙ্গে করবে, মাছের সঙ্গে কেন?”
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, মাছ মরে ভেসে ওঠার খবর পেয়েই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা শত শত রুই ও তেলাপিয়া মাছ মরে পানিতে ভাসতে দেখেন। বিষ প্রয়োগ করে এভাবে মাছ নিধন করা অত্যন্ত অন্যায় ও অমানবিক কাজ বলে উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, “আমরা ঘটনাটি জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যারা দোষী, অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”