যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর হিসেবে পঞ্চমবারের মতো জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের সন্তান শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন। তিনি বিশ্বজুড়ে শেখ রহমান নামেই অধিক পরিচিত।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ফলাফলের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে শেখ রহমানের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তার পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী তিনি ৩৫ হাজার ১০১টি ভোট পেয়েছেন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ রহমান চন্দন। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০২০, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৯ মে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে তিনি দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ার গড়েন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম মুসলিম এবং প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন।

শেখ রহমান চন্দন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। প্রবাসে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এমন অভাবনীয় সাফল্যে তার জন্মস্থান সরারচর ইউনিয়নসহ পুরো বাজিতপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায় আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে তার এই অর্জন এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেখ রহমানের পুনর্নির্বাচনের খবরে বাজিতপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা তাকে এলাকার একজন গর্বিত সন্তান হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই বিষয়ে শেখ রহমানের ভাতিজা শেখ রাফিদ রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর হিসেবে শেখ রহমানের পুনর্নির্বাচিত হওয়া তাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। একজন বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন অবস্থানে পৌঁছানো সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় দায়িত্বে আসীন হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন বলে তারা আশাবাদী।”