কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে। বাজিতপুর বাজারের এমপি মার্কেটের সামনে কৈলাগ ইউনিয়ন ও পৌরসভার দরিঘাগটিয়া এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন টর্চলাইট জ্বালিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এমপি মার্কেটের সামনে অবস্থিত একটি মোবাইল ফোনের দোকানের ভেতর থেকে দরিঘাগটিয়া এলাকার কালাম, কৈলাগ এলাকার জিদানকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, “তুই বাজারে কী করস”। এই প্রশ্নটিই পূর্ববিরোধের কারণে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডার জন্ম দেয়। এক পর্যায়ে মুরাদেরের দোকানে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার পর উভয় পক্ষই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এর কিছুক্ষণ পর জিদান কৈলাগ ইউনিয়ন থেকে লোকবল নিয়ে পুনরায় বাজিতপুর বাজারে ফিরে আসেন। সেখানে কালামকে খুঁজে না পেয়ে তিনি ওই মোবাইল ফোনের দোকানদারকে টেঁটা দিয়ে আঘাত করেন এবং দোকানের ভেতর ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এরপর তারা এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দরিঘাগটিয়া এলাকার লোকজন দলে দলে বাজারে জড়ো হতে শুরু করেন। এর পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের ফলে পুরো বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, একপর্যায়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার লোকজনও এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালীন বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষ থামাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্স রয়েছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে রাতে বিভিন্ন দিক থেকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।”