ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুভ সূচনা করতে জয় লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ভুটানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। বিশেষ করে স্ট্রাইকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিশ্বনাথ ঘোষের একাধিক সুযোগ নষ্ট করার কারণে হতাশা পোহাতে হয়েছে দলকে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সামনে খুব একটা চাপ তৈরি করতে পারেনি ভুটান। ফলে আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখলেও গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করেছে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন দল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। তবে গোলমুখে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে বিরতিতে যাওয়ার আগে কোনো গোল করতে পারেনি টমাস ডুলির শিষ্যরা।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই একটি দারুণ আক্রমণ সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে রাকিব হোসেনের ক্রস বিশ্বনাথের কাছে পৌঁছানোর আগেই সতর্ক হয়ে বল সরিয়ে নেন ভুটানের ডিফেন্ডাররা। এরপর ফিরতি বলে জামাল ভূঁইয়া একটি জোরালো শট নিলেও তা প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যুহ ভেদ করতে পারেনি।

১৮তম মিনিটে আবারও গোল করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। রাকিবের ক্রস থেকে হেডে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন বিশ্বনাথ, তবে তার সেই প্রচেষ্টা পোস্টের বাইরে চলে যায়। এর সাত মিনিট পর আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ সামনে পান তিনি। প্রায় ফাঁকায় বল পাওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন এই ফুটবলার।

৩৯তম মিনিটে আবারও বিশ্বনাথের সামনে আসে গোলের দারুণ সুযোগ। সামনে কেবল ভুটানের গোলরক্ষক থাকলেও তার কোনাকুনি শটটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। ফলে গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশের সমর্থকরা আবারও হতাশ হন।

ঠিক তার পরের মিনিটেই প্রথমবার বাংলাদেশের গোলমুখে শট নেয় ভুটান। তবে সেই আক্রমণটি সহজেই রুখে দিয়ে বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

বিরতির ঠিক আগে ৪৪তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। জামালের নেওয়া ফ্রি কিক থেকে হেডে বল বাড়িয়েছিলেন শমিত সোম। কিন্তু গোলমুখে অবস্থান করা জিদান ইউসুফ ও সাদ উদ্দিন কেউই বলের নাগাল পাননি। ফলে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোলের অপেক্ষা শেষ হয়নি স্বাগতিকদের।

এদিকে প্রথমার্ধে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ভুটানের অর্গিয়েন ওয়াংচুককে। তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ম্যাচ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা সামলাতে হয় বাংলাদেশকে। ওয়ার্মআপের সময় চোট পাওয়ার কারণে ঘোষিত একাদশ থেকে ছিটকে যান অধিনায়ক তপু বর্মন। তার পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পান কাজেম শাহ। ফলে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন জামাল ভূঁইয়া।

অন্যদিকে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ ডুলি। নিয়মিত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন তিনি। তবে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পেয়েও সেই আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বিশ্বনাথ।