বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিয়নায়তনে শ্রমিক অসন্তোষের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুতর অভিযোগটি উত্থাপন করেন।

সভায় মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নারায়ণগঞ্জে মোট পাঁচ শতাধিক পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র ১২–১৩টিতে সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে আন্দোলন চলছে, তাতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো কারখানার শ্রমিক নন। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেন কেউ কারও উসকানিতে পা না দেয়।

এই সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্ষতি করতে এবং সরকারকে বিব্রত করতে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কাজ করছে। তাঁর দাবি, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেনি বলে তিনি মনে করেন।

শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান প্রদান এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সরকার ও মজুরি বোর্ড যে মজুরি নির্ধারণ করবে, মালিকেরা তা দিতে প্রস্তুত। উসকানিতে সাড়া না দিয়ে পুনরায় কাজে ফিরে আসার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন, পুলিশ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ দেশের ক্ষতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সভায় মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক মনে হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা আমরা সবাই মিলে মেনে নেব। অতীতেও ব্যবসায়ীরা মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেননি।’

উক্ত মতবিনিময় সভায় চেম্বারের সহসভাপতি ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সোহেল আক্তার, গোলাম সারোয়ার সাঈদ, আহমেদুর রহমান, মজিবুর রহমান এবং নিতাইগঞ্জ পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শংকর সাহাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছিলেন, যার ফলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।