সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সাইদুল ইসলাম এবং আব্দুল সহিদের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, গত ২ নভেম্বর বিকেলে ইউপি সদস্য কামাল মিয়া তার অসুস্থ এক স্বজনের খোঁজ নিতে আব্দুল সহিদকে বাড়িতে আসার অনুরোধ জানান। তবে আব্দুল সহিদ কামালের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে মারধর করা হয়। এই ঘটনাটিই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধের সূত্রপাত ঘটায়।
অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুল সহিদের নেতৃত্বে গ্রামের খোকন মিয়া, সুহেল মিয়া, জাহিদ হাসান, মতিন মিয়া, আলকাছ মিয়া, রাজু মিয়া, নাদির মিয়া, কামাল মিয়া, ছামির মিয়া, আব্দুল কাদির, মোহাম্মদ আলী, শাহজাদা, জিয়াউর রহমান ও মহিবুর রহমান দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালান।
হামলায় রামদা, সুলফি, জাটা ও কিরিচসহ বিভিন্ন ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। এই সংঘর্ষে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম, আজমান আলী, সুয়েব মিয়া, ফাজিল মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, সুজাত মিয়া ও নার্গিস বেগমসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাহাজ উদ্দিন ও আজমান আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসী সামাজিক সালিশের মাধ্যমে হামলায় জড়িত আব্দুল সহিদসহ কয়েকজনকে একঘরে করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণাকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এ সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আব্দুল সহিদ দাবি করেন, আগে সাইদুল মেম্বারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ বাধে। এতে আমিসহ আমাদের পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।”