সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও হুমকির অভিযোগ তৈরি করেছে চরম উত্তেজনা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সংঘাতের আশঙ্কায় আয়োজনটি বন্ধের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ খাই হাওরে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের ইংল্যান্ডপ্রবাসী আবুল হোসেনের উদ্যোগে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে পার্শ্ববর্তী পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের একাংশ থেকে এতে তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি দেখা দিয়েছে।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রুজেল আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সমন্বয়ও করা হয়নি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আয়োজক পক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা যেকোনো সময় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
রুজেল আহমদ বলেন, "লন্ডনী সাহেব যে আয়োজন করেছেন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি আমাদের কাউকে বিষয়টি অবগত করেননি। এত বড় একটি আয়োজনের বিষয়ে পরিষদ বা এলাকার অনেক মুরব্বিকে জানানো হয়নি। কোনো সমস্যা হলে আমি কি দায় এড়াতে পারব?"
তিনি আরও বলেন, "নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে নানা ধরনের বক্তব্য, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।"
প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করেন, এটি তার একার সিদ্ধান্ত নয়; ইউনিয়ন পরিষদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই আবেদন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি যোগ করেন, "ইউনিয়নের সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করে আয়োজন করলে আমার কোনো আপত্তি নেই।"
অপরপক্ষের আয়োজক আবুল হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। হাঁসকুড়ি, ধলমৈশা, উলারপিঠা, শান্তিপুর ও বাবনগাঁও গ্রামের মানুষকে নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের সবাই পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। নৌকাবাইচের স্থানটিও পশ্চিম বীরগাঁওবাসীর। আমি মারামারি বা কোনো সমস্যা করার জন্য নৌকাবাইচের আয়োজন করি না।"
ফেসবুকে লেখালেখি ও হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কারা এসব পোস্ট বা মন্তব্য করছেন, তা তার জানা নেই। তার পক্ষের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও তিনি জানেন না। নৌকাবাইচ বন্ধের আবেদনের বিষয়েও তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, "নৌকাবাইচের আয়োজন নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বাইচের স্থানটি দুটি এলাকার মধ্যবর্তী এলাকায় হলে সেটি আয়োজকদের এলাকাতেই। যেহেতু একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।"