খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এক চা দোকানে ঢুকে তরিকুল ইসলাম শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় অবস্থিত একটি চায়ের দোকানে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তরিকুল পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম শেখের পুত্র।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকার গফফারের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন তরিকুল। ঠিক সেই মুহূর্তে হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে উপস্থিত হন। তাঁদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলার পর হঠাৎ করেই তাঁরা তরিকুলের মাথায় গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমরেশ মণ্ডল জানান, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নিতে তরিকুল বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে বাসে জায়গা না পাওয়ায় তিনি ফিরে আসেন এবং চায়ের দোকানে বসেন। সেই সুযোগেই মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হেলমেটধারী ব্যক্তি তাঁকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যান।

সন্তান হারানোর শোকে তরিকুলের বাবা আবদুস সালাম শেখ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। রাজনীতিই আমার সব শেষ করে দিল।’

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তরিকুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ও জেলা এলাকায় চলতি বছরের প্রায় ১০ মাসে মোট ৭৭ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯ জন এবং জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় নিহত হয়েছেন ৩৮ জন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নগর এলাকায় মোট ৩৭টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল।

অন্যদিকে, জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলোতেও একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। জেলা পুলিশের হিসাব মতে, ২০২১ সালে ৩০টি, ২০২২ সালে ২২টি, ২০২৩ সালে ২১টি, ২০২৪ সালে ৩১টি এবং ২০২৫ সালে ৪৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চলতি বছরের ২ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৩৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরাসরি হত্যাকাণ্ডের বাইরেও জেলায় অন্তত ৩৫টি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।