খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে একটি বরফ কলকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জিএম হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অস্তিত্বহীন অবকাঠামোর তথ্য দেওয়া এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে অন্য ইউনিয়নের স্থাপনা দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে ।
এ ছাড়া তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি করেও কীভাবে সারের ডিলারশিপ পরিচালনা করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গুদাম ও অবকাঠামোর শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি। বরফ কলকে সারের গুদাম হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ডুমুরিয়া সদরের বাসিন্দা ও ভোটার না হয়েও গুটুদিয়া ইউনিয়নে তার অন্য ব্যবসার স্থাপনা দেখিয়ে তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডুমুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, একজন লোক ঢাকায় চাকরি করেন, ডুমুরিয়া সদরে তার কোনো বৈধ গুদাম নেই। একটি বরফ কল দেখিয়ে তিনি সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। গুটুদিয়া ইউনিয়নের ঘর দেখিয়ে সদর ইউনিয়নের ডিলারশিপ কীভাবে সম্ভব। আমরা এই ভুয়া ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে জিএম হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আমি ঢাকায় চাকরি করি ঠিকই, তবে ডিলারশিপের ব্যবসা দেখাশোনার জন্য আমার বিশ্বস্ত লোক রয়েছে। আর ঘরের বিষয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বরফ কলকে গুদাম হিসেবে দেখানো এবং ইউনিয়নের সীমানাবহির্ভূত ঘর দেখানোর বিষয়ে আমরা বেশ কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসংগতি বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বরদাশত করা হবে না। আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য এবং সরেজমিন পরিদর্শনের তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো ব্যক্তি বরফ কল দেখিয়ে কিংবা ঢাকায় চাকরি করা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজপত্রে ডিলারশিপ পেয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।