চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফেরত চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিদায় জানানোর পর সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনার ফিরে আসা হাস্যকর। তিনি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট নিয়ে আসবেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে, সেই অনুযায়ী তার হস্তান্তর চায় সরকার।”
তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান যে, পলাতক এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে দেশে ফেরার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না।
অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ-চায়না-মিয়ানমার করিডর বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। তবে এই করিডর কার্যকর করার আগে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি।
এই বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি প্রধান বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে। তবে এই আঞ্চলিক করিডরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ থাকলেও তার আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
পরিশেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, লিউ হাইশিংয়ের এই সফর আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় এবং কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করে তুলবে।