গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লার করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিশেষ উপহার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ৩ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় ‘ছয় সন্তানকে বড় করেছেন, ৯৫ বছর বয়সে বাবার ঠাঁই হলো গাছতলায়’ শিরোনামে একটি হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিবেদনটি পড়ার পর বিষয়টি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। বৃদ্ধের এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার উত্তর হিরন গ্রামে শামসুল হকের বাসভবনে যান। সেখানে তাঁরা বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা এবং পারিবারিক পরিস্থিতির বিস্তারিত খোঁজখবর গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শামসুল হকের হাতে উপহার এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয় প্রতিনিধিদলটি।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন মোকছেদুল মোমিন বলেন, “শামসুল হকের নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।” তবে প্রতিনিধিদলটি সরেজমিনে গিয়ে জানতে পারেন যে, শামসুল হকের ছেলেরা তাঁকে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং আমৃত্যু তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিনিধিদলটি জানিয়েছে, এই ইতিবাচক বিষয়টি তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শামসুল হক তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করে মানুষ করেছেন। সম্প্রতি তিনি নিজের মালিকানাধীন জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু এরপরই তিনি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে তাঁকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি বাড়ির পাশের একটি গাছতলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁর এই চরম অসহায়ত্বের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমদ, শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মহান এবং আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ প্রমুখ।