ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নবগঠিত উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের তালিকায় রয়েছেন পৌর শ্রমিক দলের সদস্য হোসেন মিয়া (৪০), কসবা পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী শহিদুল খাঁ (৩০), ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সদস্য রাব্বি মিয়া (২৫), পৌর ছাত্রদলের নেতা রাসেদুল ইসলাম (২৭) এবং মো. জুয়েল (৩০)। তাঁদের দ্রুত কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। জানা গেছে, আহত এই পাঁচজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী।
উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা ও কর্মীর সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা বর্তমানে দুই শিবিরে বিভক্ত। তাঁদের একটি অংশ স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী এবং অন্য অংশটি জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী। স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী দাবি করেছেন যে, কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি থেকে সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান এবং সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত ঘোষণায় কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের দুটি আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় উপজেলা ছাত্রদলের ১২ সদস্যের এবং পৌর ছাত্রদলের ১৩ সদস্যের একটি করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
উপজেলা ছাত্রদল ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যার পর কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী এবং নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি আনন্দমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর শহরের স্বাধীনতা চত্বরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
ঠিক সেই সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ ও শহিদুল খাঁসহ ছাত্রদলের একাংশ জেলা ছাত্রদলের ঘোষিত এই কমিটিকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বাধীনতা চত্বরে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এই ঘটনায় সংসদ সদস্যের অনুসারী পাঁচজন আহত হন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে উত্তেজনা প্রশমনে ওই এলাকাটিতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এই সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
সংঘর্ষের পর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ। তিনি জানান, এলাকাটিতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।