ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক কলহের চরম পরিণতি হিসেবে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে ইখতারা সরকার (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। চার দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।

নিহত ইখতারা সরকার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের ঈদন সরকারের কন্যা। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা। ইখতারার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পারিবারিক বিবাদের জেরে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ইখতারার মরদেহ তাঁর বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

পরিবারের একাধিক সদস্য জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ইখতারার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তবে প্রায় এক বছর আগে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাদকাসক্তির ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ সৃষ্টি হতো এবং নেশার টাকার জন্য জাহাঙ্গীর প্রায়ই তাঁর স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করতেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, স্বামীর ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় দেড় মাস আগে ইখতারা তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত শুক্রবার ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। সেই সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

ইখতারার পরিবারের ভাষ্যমতে, গত শনিবার ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হন। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জাহাঙ্গীর ঘরে ঢুকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ইখতারার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে এসে তাঁকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে আশুগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় গত রোববার ইখতারার ভগ্নিপতি রুবেল মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি চিকিৎসকের বরাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ওই নারীর শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”