ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তার দূরসম্পর্কের চাচাকে (১৮) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় এ মামলা করেন।

নিহত শিশু স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়তেন। গতকাল শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শফিকুল আলম চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শিশুর মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। মামলায় শিশুর দূরসম্পর্কের চাচাকে আসামি করা হয়। পরে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।"

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযুক্ত তরুণ দুপুরে শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলে নিজ ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নিজ ঘরের সামনে বসে থাকেন। শিশুটির মা ছোট ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি ফিরে মেয়েকে খুঁজছিলেন। অভিযুক্ত তরুণের ঘরের সামনে গিয়ে মেয়ের কথা জানতে চাইলে তিনি শিশুটিকে না দেখার কথা জানান। তবে ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখে মায়ের সন্দেহ হয়।

ঘরের ভেতরে গিয়ে বিছানায় শিশুটিকে হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন মা। তাঁর চিৎকারে স্বজনরা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে তিন থেকে চার হাজার লোক অভিযুক্ত তরুণকে একটি বাড়িতে ঘেরাও করে রাখেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ লাঠিপেটা করলে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ডিবি সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হেলমেট পরিয়ে অভিযুক্তকে বের করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা আবার চড়াও হন। পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "স্থানীয় তিন থেকে চার হাজার লোক উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত তরুণকে মেরে ফেলতে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও লোকজনের সহায়তায় তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়।"