রেড বুল অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি দুবার এগিয়ে গেলেও ৭৭ মিনিট পর্যন্ত লড়াই ছিল সমানে সমান। ২–২ গোলের সমতা বিরাজমান থাকাকালীন সবার নজর ছিল আর্লিং হলান্ডের দিকে। প্রতিপক্ষ লাইপজিগ হওয়ায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, নরওয়েজীয় এই তারকা গোল করবেনই, কারণ জার্মানির এই ক্লাবটির বিপক্ষে হলান্ডকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। আর সেই প্রত্যাশা পূরণ হলো ঠিক পরের মিনিটেই।
এলিয়ট অ্যান্ডারসনের একটি নিখুঁত ক্রস থেকে বল জালে পাঠান হলান্ড। শেষ পর্যন্ত এই তারকার গোলে লাইপজিগের মাঠেই ৩–২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ম্যানচেস্টার সিটি। এনজো মারেসকার নেতৃত্বাধীন দলটি তিন ম্যাচ পর জয়ের ধারায় ফিরে এল। উল্লেখ্য, প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচ হারের পর লিগ কাপে ব্রাইটনের বিপক্ষে ড্র করেছিল সিটি।
ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে এই ম্যাচে অন্য দুটি গোলের একটি এসেছে এনজো ফার্নান্দেজের কাছ থেকে এবং অন্যটি লাইপজিগের সেন্টার ব্যাক লুকেবারের আত্মঘাতী গোলে। লাইপজিগের বিপক্ষে ৯ ম্যাচে হলান্ডের মোট গোলের সংখ্যা এখন ১৩। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ক্যারিয়ারে অন্য কোনো দলের বিপক্ষে এত বেশি গোল করেননি তিনি।
ম্যাচ শেষে ‘ডিএজেডএন’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেন, ‘ডর্টমুন্ড ও সিটির হয়ে লাইপজিগের বিপক্ষে অনেক খেলেছি। প্রতিবছরই আমাদের দেখা হয়। তাদের বিপক্ষে বেশ কিছু গোল করেছি। খেলতেও ভালোই লাগে। সত্যি বলতে এটা উপভোগ করছি।’
পরিসংখ্যান বলছে, চ্যাম্পিয়নস লিগ আসরটি যেন হলান্ডেরই খেলার মাঠ। ৬১টি ম্যাচে তিনি করেছেন ৬২টি গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্তত ২০টি ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের মধ্যে তিনি একমাত্র খেলোয়াড়, যার ম্যাচ সংখ্যার চেয়ে গোল সংখ্যা বেশি। তাঁর গোল গড় ১.০২। এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল গড় লিওনেল মেসির, যিনি ১৬৩ ম্যাচে ১২৯টি গোল করেছেন (০.৭৯)।
তবে জয়ের আনন্দ থাকলেও ম্যাচটি ভুলে যেতে চাইবেন সিটি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দন্নারুম্মা। তাঁর একটি ভুলের কারণেই ৪৯ মিনিটে লাইপজিগ প্রথম গোলটি পায়। তবে ম্যাচ শেষে দন্নারুম্মাকে সমর্থন জানান কোচ মারেসকা। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই...আমরা একটা ভুল নিয়ে কথা বলছি। তার কয়েক মিনিট আগেই সে এমন একটি সেভ করেছে, যেটা বিশ্বের আর কোনো গোলকিপারের পক্ষে অসম্ভব।’
বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষ দল আর্সেনালের চেয়ে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে সিটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ৪ ম্যাচে মারেসকার দল এ নিয়ে তৃতীয় জয় পেল।
অন্যদিকে, ফরচুনা অ্যারেনায় স্বাগতিক স্লাভিয়া প্রাহার বিপক্ষে ২–১ গোলের জয় পেয়েছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। স্ট্রাইকার ভিক্টর ইওরকাইস এক গোল করার পাশাপাশি আরও একটি গোলে সহায়তা করেন। লিভারপুল ম্যাচের একাদশে ছয় পরিবর্তন এনে এই জয় নিশ্চিত করলেও খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি কোচ মিকেল আরতেতা।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়া আর্সেনাল চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। জয়ের পর আরতেতা বলেন, ‘আমরা নিজেদের প্রত্যাশিত মান থেকে যোজন যোজন দূরে ছিলাম, তবু শেষ পর্যন্ত আমরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছি।’