যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় জায়গাতেই জয়লাভ করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন চরম চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে ফিফার আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ইতিপূর্বে তদন্ত শুরু করেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে এতদিন মার্কিন কংগ্রেসে সংখ্যালঘু দল হিসেবে অবস্থান করার কারণে ইনফান্তিনোকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাধ্য করার আইনি ক্ষমতা তাদের ছিল না। এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ায় ডেমোক্র্যাট পার্টি সেই ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথ সহযোগিতা না করলে ফিফা সভাপতি আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।
গত ২৬ জুলাই হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইনফান্তিনো ও ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য ফিফা এবং ইনফান্তিনো দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই তদন্তের অংশ হিসেবে ইনফান্তিনোর কাছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছিল এবং কমিটির সামনে হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে সে সময় কমিটিতে সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের ইনফান্তিনোকে হাজির করতে বাধ্য করার কোনো আইনি ক্ষমতা ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটি তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমন পাঠাতে পারে। এই সমন অমান্য করলে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় জুডিশিয়ারি কমিটির তদন্তে এখন সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। এর ফলে ইনফান্তিনোকে শুধু নথি জমা দেওয়ার অনুরোধ করলেই হবে না, প্রয়োজনে তাঁকে কমিটির সামনে হাজির হতেও বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।
ইনফান্তিনো ও ফিফার অসহযোগিতার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগেই তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর কমিটির এক মুখপাত্র জানান, “তদন্তে ফিফার সহযোগিতা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত।” তিনি আরও জানান যে, ফিফার কাছে চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিই তখন পর্যন্ত কমিটির হাতে আসেনি। যেসব তথ্যের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল—ট্রাম্প পরিবারকে ফিফা কত অর্থ প্রদান করেছে, ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা কীভাবে তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাটি সামনে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ তিনটি মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশন এর তীব্র বিরোধিতা করে। পরবর্তীতে ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও উয়েফা জানিয়ে দিয়েছে যে, ইনফান্তিনোর ওপর তাঁদের আর আস্থা নেই। আগামী বছর ফিফা সভাপতি পদে আবারও লড়তে পারেন ইনফান্তিনো। এরই মধ্যে এশিয়া ও আফ্রিকার সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
এতদিন ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং উয়েফার বিরোধিতাই ইনফান্তিনোর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা বৃদ্ধি তাঁর জন্য এক নতুন সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে তদন্তটি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।