দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় র্যাপার ইয়াং হং-ওনের ব্যক্তিগত জীবন এখন চরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পরকীয়ার গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ত্রী মডেল ওন হিউন-জুর সঙ্গে কাটানো বিয়ের সব ছবি মুছে দিয়েছেন তিনি। এই পদক্ষেপের ফলে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর গত ১৮ অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইয়াং হং-ওন ও ওন হিউন-জু। ২০২৪ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে আসে এক কন্যাসন্তান। তবে সুখের এই দাম্পত্য জীবন খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
বিয়ের মাত্র পাঁচ দিন পরেই অভিযোগ ওঠে যে, ইয়াং হং-ওন অন্য এক নারীকে নিয়ে মোটেলে গিয়েছিলেন। এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ইয়াংয়ের ম্যানেজমেন্ট সংস্থা 'এপি অ্যালকেমি' ওই নারীর সঙ্গে তাঁর মোটেলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে সংস্থাটি দাবি করেছে যে, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক বা প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। পাশাপাশি সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, একজন অভিযোগকারী অর্থ দাবি করেছিলেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে গত মঙ্গলবার ইয়াং হং-ওনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলে দেখা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে তোলা বিয়ের কোনো ছবিই আর নেই। এর আগে তিনি বিয়ের ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনটিও মুছে ফেলেছিলেন। সেই ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “হিউন-জু, আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখনো মনে হচ্ছে, আমি যেন চনহো-দংয়ের কোনো মোটেলে ঢুকছি।” এবার ছবিগুলোও সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ের ফটোশুটের প্রস্তুতির সময় তোলা ওনের একটি ছবি এখনো তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, পরকীয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন ওন হিউন-জু। তিনি তাঁর প্রোফাইলের আগের সব পোস্ট মুছে ফেলেছেন। এছাড়া জানা গেছে, দম্পতি একে অপরকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনফলো করেছেন।
গত শনিবার ইয়াং তাঁর অ্যাকাউন্টে ড্রেকের ‘ডব্লিউএনবিএ’ গানটি শেয়ার করেন। গানটির কথাগুলোতে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং সহজে সম্পর্ক শেষ করতে না পারার ইঙ্গিত রয়েছে। এই গান শেয়ার করার বিষয়টিও তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নেটিজেনদের মনে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।