কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান (৪০)। বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এই নৃশংস আক্রমণটি চালানো হয়। এই ঘটনার জন্য বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন তাঁর বাবা আখতারুজ্জামান।

হামলায় গুরুতর আহত শাহরিয়ার জামানকে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং আঘাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গচিহাটা গ্রামে আখতারুজ্জামানের পৈতৃক নিবাস এবং সেখানে তাঁদের বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহরিয়ার জামান সাধারণত গ্রামেই অবস্থান করেন এবং পারিবারিক ব্যবসার দেখাশোনা করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তিনি তা পাননি।

শাহরিয়ার জামানের বাবা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান তাঁর ছেলের ওপর এই হামলার জন্য বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের সরাসরি দায়ী করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, রাত আটটার দিকে শাহরিয়ার জামান গচিহাটা বাজারে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হামলার সময় শাহরিয়ার জামানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। তিনি জানান, শাহরিয়ার জামানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, বুকের আঘাতটি গুরুতর। এই কারণেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে মোজাম্মেল হক জোয়ারদার জানান, বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান তাঁর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, উপজেলার সহস্রাম-দুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের নেতারা তাঁর ছেলের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং ছুরিকাঘাত করে আহত করেছেন।

আখতারুজ্জামান আরও লিখেছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর ছেলে গচিহাটায় থাকেন এবং সেখানে খামার দেখাশোনা করেন। ছেলের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

ঘটনার বিষয়ে কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আখতারুজ্জামান ফোন করে তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।