রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। ১৩ তলা বিশিষ্ট এই ভবনগুলোতে মোট ১৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটির আয়তন হবে ৮৫০ বর্গফুট। মূলত ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মানসম্মত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভায় আবাসন প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আবাসন ভবন নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সম্পূর্ণ প্রকল্পের অর্থায়ন করবে সরকার। জিগাতলায় এই উদ্দেশ্যে প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জমি নির্ধারিত করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিগাতলা সরকারি কলোনির বর্তমান ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ভবনগুলো ভেঙে সেখানে নতুন তিনটি বহুতল ভবন তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য, পুরোনো এই চারটি ভবন অপসারণের বিষয়ে ইতিপূর্বে ভবন কনডেমনেশন কমিটি অনুমোদন প্রদান করেছে।
এর আগে বিগত সরকারের সময়েও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের কাঠের কারখানা এলাকায় পাঁচটি এবং শিয়ালবাড়ি এলাকায় ছয়টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এই দুই এলাকার মোট ১১টি ভবনের প্রতিটিই ছিল ১৪ তলা বিশিষ্ট। এছাড়া নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জে আরও ১৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই ধরণের নতুন প্রকল্প গ্রহণ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আবাসনসংকট বা ঘাটতি আছে। তবে ভবন যদি ব্যবহার না হয় বা ঠিকমতো বরাদ্দ না হয়, সেটার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। কেন ভবন তৈরি হয় আর খালি পড়ে থাকে—সেই সমস্যার সমাধান আগে করা প্রয়োজন। তারপর নতুন করে প্রকল্প নেওয়া উচিত।”
আজকের একনেক সভায় আবাসন প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল বাজেটের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪১ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি টাকা। অনুমোদিত এই ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি সম্পূর্ণ নতুন এবং বাকি দুটি সংশোধিত প্রকল্প।