বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও আহত করার অভিযোগে দায়ের করা আরও একটি মামলায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। এর ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান মোট পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হায়দার আলী এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ী শহরে শিক্ষার্থী উৎস সরকারকে মারধর করে আহত করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির তদন্তের মাধ্যমে তাকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আবেদন জানান।
বুধবার জেলা কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শুনানি শেষে উক্ত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উৎস সরকার বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম জানান, তার মক্কেল প্রথমে একটি জিআর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে তিনি ওই মামলায় জামিন পান। এরপর অন্য একটি জিআর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সেই মামলাতেও তিনি জামিন লাভ করেন।
আইনজীবীর আরও ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে একটি জিআর মামলায় এবং গত ১৫ অক্টোবর গোয়ালন্দ ঘাট থানার আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ বুধবার রাজবাড়ী সদর থানার আরেকটি জিআর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কাজী কেরামত আলীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে চারটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং দুটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে অবস্থান করছেন।