রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের জন্য কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং চুক্তির শর্তাবলি ও প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৯ অক্টোবর একটি চিঠি জারি করে চুক্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ৩১ অক্টোবর থেকে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়, ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের কার্যসম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
চিঠির বিবরণ অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের লক্ষ্যে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এই চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটি ১ জুলাই থেকে জনবল সরবরাহ করে আসছিল।
তবে চুক্তির আওতায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও পর্যালোচনায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বৈধতার পরিপন্থি বিষয় এবং চুক্তির শর্ত ও প্রযোজ্য ক্রয় আইন-বিধির সঙ্গে অসংগতির বিষয় উঠে আসে।
এছাড়া সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুযায়ী গঠিত একটি পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনার আলোকে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। এই নিয়োগের আওতায় পাঁচজন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তাপ্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছিল কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড।
মুক্তকণ্ঠের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তি চাকরি পেতে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি ওই প্রতিবেদনে উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই কর্মী বাছাই করা এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটিই কে এস এফ ট্রেডার্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব দেয়।