কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এই অভিযানে ১১ লাখ ইয়াবা এবং পাঁচটি দেশি রামদসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার গ্রামের আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় সীমান্ত সংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে এই অভিযান চালানো হয় এবং মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত দুই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের পুত্র মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভীবাজার এলাকার ছলিম উদ্দিনের পুত্র মো. আদিল (২৬)।
অভিযান প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মঙ্গলবার টেকনাফ সদরের শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, একটি মাদক কারবারি চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহের জন্য হ্নীলার মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। এই খবরের ভিত্তিতে এসআরবির সদস্যরা দুটি দলে ভাগ হয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা ছদ্মবেশে সেখানে অবস্থান নেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন ধানক্ষেতে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ইয়াবা ও পাঁচটি দেশি রামদাসহ দুজনকে আটক করা হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মিয়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশে প্রবেশ করছে। এই মাদকদ্রব্যগুলো যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে এসআরবি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে বলে তিনি জানান।
আটক মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুর রহমান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবির সাম্প্রতিক কার্যক্রমের একটি হিসাব তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, গত ৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৫টি অভিযান পরিচালনা করেছে এসআরবি। এসব অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০টি ইয়াবা, ৪৮ কেজি গাঁজা, একটি একনলা বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটারগান, ১৭ রাউন্ড গুলি এবং ২৭টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে অপহরণ ও মানবপাচারের শিকার সাতজনকে উদ্ধারসহ মোট ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।