চাঁদপুরের কচুয়া উত্তর বাজারের ফুটপাত এবং পথচারীদের চলাচলের রাস্তা বর্তমানে অবৈধ হকারদের কবজায় চলে গেছে। এর ফলে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনা করা ওই এলাকার স্থায়ী ব্যবসায়ীরা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রয়লব্ধ আয়ে ব্যাপক ধস নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উত্তর বাজারের পল্টন ও এর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টির বেশি অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের মধ্যে ১০টি ফলের দোকান, ১২টি কাপড়ের দোকান এবং ৬টি চায়ের স্টলসহ আরও বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। রূপসী বাংলা হোটেল থেকে শুরু করে জয় ভ্যারাইটিজ স্টোর পর্যন্ত প্রায় ২০০ গজের বেশি এলাকা জবরদখল করে এই ব্যবসাগুলো চালানো হচ্ছে। গত ৫-৬ বছর ধরে এভাবে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চললেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগী স্থায়ী ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ফুটপাতের ওপর এসব অবৈধ দোকান গড়ে ওঠার কারণে ক্রেতারা সহজে তাদের দোকানে প্রবেশ করতে পারছেন না। এর ফলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বাজারের একজন স্থায়ী ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র ঘোষ আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ১০ লাখ টাকা অগ্রিম (অ্যাডভান্স) দিয়ে দোকান নিয়েছি এবং প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করছি। অথচ দোকানের ঠিক সামনেই অবৈধভাবে হকাররা বসে আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই, আমরা এর দ্রুত প্রতিকার চাই।”
অন্যদিকে, ফুটপাত দখল এবং ব্যবসায়ীদের এই সংকট প্রসঙ্গে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরে তিনি ব্যবসায়ীদের এই দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। এছাড়া ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদে বাজারের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এই বিষয়ে কথা বলে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “অতিদ্রুত ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদের জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করবে। খুব শীঘ্রই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”