সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একটি ফুটবল ম্যাচের ফলাফল ও অতিরিক্ত সময় দেওয়া নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ছাতক উপজেলার জালালীরচর ও পাইগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বোকা নদীর রাঙ্গাদীঘা সেতু এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে এবং পুলিশি তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিকেলে নানখার ও চরচৌরাই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে জাউয়াবাজার ইউনিয়নের পাইগাঁও এবং চরমহল্লা ইউনিয়নের জালালীচর গ্রামের দুটি দলের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালীন রেফারির অতিরিক্ত সময় প্রদান এবং জয়-পরাজয়ের বিষয়টি নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পরবর্তীতে ওই রাতেই জালালীচর গ্রামের লোকজন পাইগাঁও গ্রামে গিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন। তবে এরই মাঝে পাইগাঁও গ্রামের কিছু লোক চরচৌরাই গ্রামের সায়েম মিয়ার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং সায়েমসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার সকালে পুনরায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর দুই পক্ষই মাইকিং শুরু করলে দুপুরে বোকা নদীর রাঙ্গাদীঘা সেতু এলাকায় তারা মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জালালীচর গ্রামের বাসিন্দা এবং চরমহল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, “রেফারি খেলায় বেশি সময় দেওয়া নিয়ে গতকাল খেলার মাঠে ঝামেলা হয়েছিল। পরে আমরা রাতে পাইগাঁও গ্রামে বিষয়টি সালিশে নিষ্পত্তি করি। কিন্তু রাতেই চরচৌরাই গ্রামের সায়েম মিয়ার দোকান ভাঙচুর-লুটপাট ও সায়েমসহ কয়েক জনকে মারধর করা হয়। এ নিয়ে আজ দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। আমাদের পক্ষের অন্তত ৬০-৭০ জন আহত হয়েছেন, সানোয়ার নামের একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, পাইগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কালাম উল্লাহ ভিন্ন দাবি করে বলেন, “গতকাল বিকেলে জালালীরচরের লোকজন আমাদের গ্রামের ছেলেদের মারধর করেছেন। পরে অবশ্য রাতে তারা এসে বিষয়টি সালিশে নিষ্পত্তি করেছিলেন।জালালীরচরের লোকজন সকালে এসে আমাদের গ্রামে এসে মারামারির জন্য উসকে দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমাদের পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।”
এই পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “গতকাল বিকেলে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ঝামেলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গতকালের ঘটনার জের ধরে আজ আবারও দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।”