বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। দীর্ঘ এই অপেক্ষার ফলে তারা চরম হতাশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিরসনে সম্প্রতি তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। উক্ত স্মারকলিপিতে বঞ্চিত শিক্ষকেরা দ্রুত তাদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদানের জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে তাদের প্রথম পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন; তারা দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন। অন্যদিকে, একই সময়ে চাকরিতে যোগদান করা অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে পঞ্চম বছরেই প্রথম পদোন্নতি লাভ করেছেন এবং বর্তমানে তারা দ্বিতীয় পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও বছরের পর বছর একই পদে স্থবির হয়ে আছেন। এই পরিস্থিতির কারণে আন্তক্যাডার বৈষম্য প্রকট হচ্ছে এবং সামগ্রিক প্রশাসনে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব—
দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকার ফলে শিক্ষকদের মধ্যে একঘেয়েমি এবং গভীর পেশাগত হতাশা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাদের স্বাভাবিক কর্মস্পৃহা ও পাঠদানের উৎসাহ হ্রাস পাচ্ছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। এছাড়া পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে নতুন প্রজন্মের মেধাবীরা শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন। ৪৭তম বিসিএসের শূন্য পদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
প্রধান দাবি ও সুপারিশ—
বঞ্চিত শিক্ষকেরা তাদের স্মারকলিপিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
*৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম ব্যাচের যোগ্য শিক্ষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হোক।
*পদোন্নতিপ্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করতে নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) সভার আয়োজন করা।
*দেশের শীর্ষ ১১টি কলেজের প্রায় ১ হাজার ৪০০ পদের মধ্যে আটকে থাকা ৮৪৮টি সহকারী অধ্যাপক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত অনুমোদন করা।
*জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকা সুপারনিউমারারি পদ সৃজনের ফাইল দ্রুত ছাড় করা।
বঞ্চিত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, শিক্ষা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের স্বার্থে শিক্ষা ক্যাডারের এই দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা দূর করা এখন অত্যন্ত জরুরি।