বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করলেও দীর্ঘ সময় ধরে তারা সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হতে পারেননি। এই দীর্ঘসূত্রতা নিরসন এবং দ্রুত পদোন্নতির দাবি জানিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রদত্ত স্মারকলিপিতে মূলত পদোন্নতি প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করা, প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৩৬তম থেকে ৩৮তম ব্যাচের প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাষক পদেই কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে, একই সময়ে চাকরিতে যোগদান করা অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাসময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট ক্যাডারের ক্ষেত্রে ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তাদেরও ইতিমধ্যে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অতীতে শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তাকে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হতে ১১ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিয়মিত পদোন্নতির এই অভাব তাদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করছে, যা পেশাগত অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের কর্মস্পৃহাকেও কমিয়ে দিচ্ছে।

পদোন্নতি আটকে থাকার প্রধান কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত পদের অভাব এবং নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়টি স্মারকলিপিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে যে, দেশের শীর্ষ ১১টি সরকারি কলেজে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৪৮৫টি হলো সহকারী অধ্যাপকের পদ। তবে এই পদ সৃষ্টির প্রস্তাবটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই পদগুলো সৃষ্টি করা হলে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতিজনিত জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

স্মারকলিপির সঙ্গে সংযুক্ত তথ্যে ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকার বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারের মোট ৯২৯টি পদের বিপরীতে মাত্র ২১৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ৭১৩টি পদে কাউকে সুপারিশ করা হয়নি, যার অর্থ হলো মোট পদের ৭৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ পদ বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং স্মারকলিপির একটি অনুলিপি তাঁর কাছে হস্তান্তর করেন।

এই সাক্ষাতের সময় মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, উপপরিচালক (সরকারি কলেজ-১) অধ্যাপক মো. নুরুল হক সিকদারসহ ৩৮তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।