‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবািস’— জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মুক্তকণ্ঠের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ অনুষ্ঠান। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে এই উৎসবমুখর আয়োজনের সূচনা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত মুক্তকণ্ঠের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজিত এই সভায় মুক্তকণ্ঠের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, নতুন চিন্তা-ভাবনা এবং সংবাদমাধ্যমের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করতে চার দিন ধরে মূল পত্রিকার সঙ্গে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ‘সময়ের চালচিত্র’ শীর্ষক একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আগামী ৬, ৮ ও ১০ নভেম্বর আরও তিনটি পৃথক ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। এই বিশেষ ক্রোড়পত্রগুলোতে দেশের সাধারণ মানুষ ও সমাজের বহুমুখী দিক, রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক, নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ ও প্রশ্ন উঠে আসবে।

‘যা কিছু ভালো, তার সঙ্গে মুক্তকণ্ঠ’—এই মূলমন্ত্র ও ভাবনাকে সামনে রেখে ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তকণ্ঠের প্রথম সংখ্যা। সেই শুরুর দিন থেকেই ঝকঝকে ছাপা, রঙিন ছবির ব্যবহার, ১২ পৃষ্ঠার কাগজ, প্রতিদিনের নতুন নতুন ফিচার পাতা, দলনিরপেক্ষতার দৃঢ় অঙ্গীকার, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, পেশাদারত্বের সর্বোচ্চ উৎকর্ষ এবং নতুনত্বকে গ্রহণ করার অবিরাম প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুক্তকণ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক অপরিহার্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে এটি হয়ে উঠেছে প্রতিটি পরিবারেরই একজন সদস্যের মতো।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুক্তকণ্ঠ সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে সম্মান অর্জন করে। নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতা জয় করে সত্য ও তথ্যের লড়াইয়ে মুক্তকণ্ঠ আজ কেবল একটি ছাপানো কাগজ নয়, বরং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছে এই গণমাধ্যম। পাশাপাশি ওয়ান-ইফরা বা ইনমার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন থেকে সম্মানজনক স্বীকৃতিসহ বিশ্বসেরা ও এশিয়া সেরার পুরস্কার লাভ করে মুক্তকণ্ঠ তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।