তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি সহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় চলমান আন্দোলনের পরিবেশ উত্তপ্ত করার অভিযোগে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা জেলা (উত্তর) পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এক অভিযানে তাঁদের আটক করে।
আটক হওয়া তিন নেতার পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক শ্রমিক নেতাদের মধ্যে মো. হালিমকে আশুলিয়ার বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট এলাকা থেকে ধরে আনা হয়। অন্যদিকে, মো. শামীম ও মো. মনসুর আলীকে জিরাবো এলাকা থেকে আটক করা হয়।
এই বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁদের আশুলিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এদিকে, তিন শ্রমিক নেতাকে আটকের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি অবিলম্বে আটক শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।
খায়রুল মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সংলাগের পথ বেছে না নিয়ে গ্রেপ্তার, হামলা, মামলা এগুলো আসলে কোনো সমাধানের পথ নয়; বরং এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের আরও উসকে দেবে। শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।”